প্রিয় কাব্য,
কেমন আছেন?
কি আশ্চর্য তাই না! বরাবর চিঠিতে বলে এসেছি, আপনি কেমন আছেন তা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন আমার নেই। আমি আপনাকে বুঝতে পারি, আপনাকে পড়তে পারি। আপনি কি বই পড়ছেন, তার নাম শুনে বলতে পারি আপনি কেমন আছেন।
অথচ আজ আমাকে জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে, আপনি কেমন আছেন!
আমি আপনাকে বুঝতে পারছি না, চিনতে পারছি না। এমন তো হবার কথা ছিল না!
আপনি কোথায় আছেন, এতটুকু পর্যন্ত জানিনা! অথচ আমাদের বিচ্ছেদ হয়নি।
যোগাযোগের সুঁতটা এত ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে উঠেছে, যা ছিড়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা নিয়ে আমাকে রোজ রাত্রি যাপন করতে হয়।
এমনটা তো হবার কথা ছিল না!
কাব্য…
কি, কেন, এখানে আমার ভূমিকা কোথায়?
এই প্রশ্নগুলো এত বেশি মাথায় ঘুরপাক খায় যে, আমার চিন্তা শক্তি বোধহয় লোভ পেয়েছে।
কতদিন কিছু লিখিনি। শব্দরা আমার কলমের ডগায় এসে কালি জমিয়ে দেয়।
কাব্য…
আপনার উপর অভিমান করে ঠিক করেছিলাম, আমার কলমে আর কখনো কাব্য উঠবে না, আর কখনো কাব্য লিখবো না।
কি আশ্চর্য, তারপরে আমি আর কোনো লেখাই লিখিনি!
লিখিনি বললে ভুল হবে, লিখতে পারিনি।
কবে, কখন থেকে যে আপনি আমার লিখনির মস্তিষ্ক এবং মূল উপকরন হয়ে উঠেছেন, আমি নিজেও আন্দাজ করতে পারিনি।
কাব্য…
আমাদের কিন্তু ঝামেলা হয়নি।
বিচ্ছেদ হয়নি।
অথচ আমি সত্যি জানিনা, আপনি কেমন আছেন, কোথায় আছেন?
নিজেকে কোনো অপরাধে বন্দী কারাগারের আসামী মনে হচ্ছে।
তবুও বলবো, আপনার ভালো হোক। আপনি ভালো থাকেন। আমার ভাগের ভালোটুকুও আপনার হোক।
ইতি,
নিশিগন্ধা
✒️ ফারহানা খানম অনন্যা
প্রিয় নিশিগন্ধা,
চিঠির শুরুতেই “কেমন আছেন” প্রশ্নটা দেখে থমকে গেলাম।
তুমি তো এমন নও, তুমি তো না জিজ্ঞেস করেই জেনে নিতে পারো আমার ভেতরের ঋতুগুলো কেমন চলছে।
তবুও আজ তুমি জিজ্ঞেস করেছো… হয়তো এই প্রশ্নটুকুই বলে দেয়, আমাদের মাঝখানের দূরত্বটা কতটা নীরব হয়ে উঠেছে।
আমি ভালো আছি, এই কথাটা বলতে পারি, কিন্তু “ভালো থাকা”টা আর আগের মতো সহজ নয়।
তোমার মতো কেউ যখন দূরে সরে যায়, তখন ভালো থাকা একটা অভ্যাসের মতো হয়ে যায়, অনুভূতির মতো নয়।
তুমি ঠিকই বলেছো, আমাদের কোনো বিচ্ছেদ হয়নি। কোনো ঝড় ওঠেনি, কোনো তর্ক হয়নি, কোনো শেষ কথাও বলা হয়নি।
অথচ অদৃশ্য এক দেয়াল আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে গেছে। কে তুললো, কখন তুললো, তা আমিও জানি না। হয়তো সময়… হয়তো অবহেলা… কিংবা না বলা কিছু অনুভূতি।
তুমি বলেছিলে, তুমি আমাকে পড়তে পারো।
আজ আমি নিজেকেও পড়তে পারি না।
যে বইয়ের পাতায় তুমি ছিলে, সেই বই আজও খোলা আছে, কিন্তু শব্দগুলো কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেছে।
তোমার প্রশ্ন “এখানে তোমার ভূমিকা কোথায়?”
সত্যি বলতে, হয়তো আমারই কোথাও ভুল ছিল। হয়তো আমি চুপ ছিলাম বেশি, কিংবা বুঝাতে পারিনি ঠিকভাবে।
কিছু সম্পর্ক ভাঙে না, তবুও হারিয়ে যায়, আমাদেরটাও হয়তো সেইরকম।
তুমি লিখতে পারছো না বলেছো…
জানো, আমিও পারিনি। কারণ তুমি ছিলে আমার প্রতিটি বাক্যের নীরব অনুপ্রেরণা। তুমি না থাকলে শব্দগুলো পথ খুঁজে পায় না।
তোমার অভিমানটা আমি অনুভব করতে পারি।
আর এই অভিমানটাই প্রমাণ করে, তুমি এখনও ভালোবাসো, কমপক্ষে সেই স্মৃতিগুলোকে, যেগুলো আমাদের মাঝে ছিল।
আমি কোথায় আছি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ নয়।
আমি ঠিক সেখানেই আছি, যেখানে তুমি আমাকে রেখে গিয়েছিলে, তোমার কিছু না বলা কথার ভেতর, কিছু অসমাপ্ত অনুভূতির পাশে।
তুমি আমার জন্য ভালো চেয়েছো, তোমার ভাগের ভালোটুকুও দিতে চেয়েছো, কিন্তু জানো, ভালো থাকার সবচেয়ে বড় অংশটাই তুমি ছিলে।
তবুও, তোমার জন্য দোয়া রইলো,
তুমি ভালো থেকো, খুব ভালো থেকো।
যদি কখনো আবার শব্দেরা তোমার কলমে ফিরে আসে,
জেনে নিও, আমি কোথাও না কোথাও সেই লেখাগুলোর মাঝেই আছি।
ইতি,
কাব্য
আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।
নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।
Greeting Card তৈরি করুন