আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমলের প্রতিদান নিয়তের উপর নির্ভর করে “নাদিম মাহমুদ”

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৯ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৯০

আমলের প্রতিদান নিয়তের
উপর নির্ভর করে,,,
,,,,,,,,,,,,নাদিম মাহমুদ,,,,,,,,,,,,,

মানুষের জীবনে প্রতিদিন অসংখ্য আমল সংঘটিত হয়—ইবাদত, কথা, আচরণ, দান, সাহায্য কিংবা নীরব সহনশীলতা। কিন্তু এই আমলগুলোর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় বাহ্যিক রূপে নয়; বরং অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা নিয়তের মাধ্যমে। ইসলাম আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়—আমলের প্রতিদান নির্ভর করে নিয়তের উপর। এই নীতিটি শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; বরং মানবজীবনের নৈতিক ভিত্তির এক অনন্য মানদণ্ড।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহ তাআলা মানুষের কাজের পরিমাণ দেখেন না, দেখেন কাজের উদ্দেশ্য। একটি কাজ মানুষের চোখে বড় হতে পারে, কিন্তু যদি তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি না থাকে, তবে তার কোনো প্রকৃত মূল্য নেই। আবার খুব সাধারণ একটি কাজ—হাসিমুখে কথা বলা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, পরিবারের জন্য পরিশ্রম করা—খাঁটি নিয়তের কারণে আল্লাহর কাছে বিশাল প্রতিদানে পরিণত হতে পারে।
নিয়ত হলো আমলের আত্মা। আত্মা ছাড়া যেমন দেহ নিথর, তেমনি নিয়ত ছাড়া আমল মূল্যহীন। লোক দেখানো ইবাদত, প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান কিংবা সম্মান অর্জনের আশায় সেবা—এসব কাজ বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কারণ এসব আমলের কেন্দ্রবিন্দু আল্লাহ নন, মানুষ।
অন্যদিকে, এমন অনেক আমল আছে যা নিঃশব্দে সম্পন্ন হয়—কেউ জানে না, কেউ দেখে না। কিন্তু সেই কাজটি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তবে তা আসমানে সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হয়। একজন মা সন্তানের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, একজন শ্রমিক যে হালাল রিজিকের জন্য কষ্ট করেন, কিংবা একজন মানুষ যে গোপনে কারো উপকার করেন—এসবই নিয়তের কারণে ইবাদতে পরিণত হয়।
নিয়তের বিশুদ্ধতা মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যায়। যখন মানুষ নিজের কাজের উদ্দেশ্যকে যাচাই করে, তখন সে অহংকার, রিয়া ও আত্মপ্রদর্শন থেকে দূরে থাকতে শেখে। নিয়ত শুদ্ধ হলে আমলও শুদ্ধ হয়, আর আমল শুদ্ধ হলে জীবনে নেমে আসে আত্মিক প্রশান্তি।
পরিশেষে বলা যায়, নিয়ত এমন এক নীরব সাক্ষী—যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি কাজের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা—আমি এটা কার জন্য করছি? যদি উত্তর হয় আল্লাহর জন্য, তবে ছোট আমলও মহৎ হয়ে ওঠে। আর যদি উদ্দেশ্য হয় মানুষের সন্তুষ্টি, তবে বড় আমলও মূল্যহীন হয়ে যায়। প্রকৃত সফলতা এখানেই—নিয়তকে খাঁটি রাখা, আমলকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা।

Facebook Comments Box
এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

আমলের প্রতিদান নিয়তের উপর নির্ভর করে “নাদিম মাহমুদ”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
৯০

আমলের প্রতিদান নিয়তের
উপর নির্ভর করে,,,
,,,,,,,,,,,,নাদিম মাহমুদ,,,,,,,,,,,,,

মানুষের জীবনে প্রতিদিন অসংখ্য আমল সংঘটিত হয়—ইবাদত, কথা, আচরণ, দান, সাহায্য কিংবা নীরব সহনশীলতা। কিন্তু এই আমলগুলোর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় বাহ্যিক রূপে নয়; বরং অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা নিয়তের মাধ্যমে। ইসলাম আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়—আমলের প্রতিদান নির্ভর করে নিয়তের উপর। এই নীতিটি শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; বরং মানবজীবনের নৈতিক ভিত্তির এক অনন্য মানদণ্ড।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহ তাআলা মানুষের কাজের পরিমাণ দেখেন না, দেখেন কাজের উদ্দেশ্য। একটি কাজ মানুষের চোখে বড় হতে পারে, কিন্তু যদি তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি না থাকে, তবে তার কোনো প্রকৃত মূল্য নেই। আবার খুব সাধারণ একটি কাজ—হাসিমুখে কথা বলা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, পরিবারের জন্য পরিশ্রম করা—খাঁটি নিয়তের কারণে আল্লাহর কাছে বিশাল প্রতিদানে পরিণত হতে পারে।
নিয়ত হলো আমলের আত্মা। আত্মা ছাড়া যেমন দেহ নিথর, তেমনি নিয়ত ছাড়া আমল মূল্যহীন। লোক দেখানো ইবাদত, প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান কিংবা সম্মান অর্জনের আশায় সেবা—এসব কাজ বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কারণ এসব আমলের কেন্দ্রবিন্দু আল্লাহ নন, মানুষ।
অন্যদিকে, এমন অনেক আমল আছে যা নিঃশব্দে সম্পন্ন হয়—কেউ জানে না, কেউ দেখে না। কিন্তু সেই কাজটি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তবে তা আসমানে সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হয়। একজন মা সন্তানের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, একজন শ্রমিক যে হালাল রিজিকের জন্য কষ্ট করেন, কিংবা একজন মানুষ যে গোপনে কারো উপকার করেন—এসবই নিয়তের কারণে ইবাদতে পরিণত হয়।
নিয়তের বিশুদ্ধতা মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যায়। যখন মানুষ নিজের কাজের উদ্দেশ্যকে যাচাই করে, তখন সে অহংকার, রিয়া ও আত্মপ্রদর্শন থেকে দূরে থাকতে শেখে। নিয়ত শুদ্ধ হলে আমলও শুদ্ধ হয়, আর আমল শুদ্ধ হলে জীবনে নেমে আসে আত্মিক প্রশান্তি।
পরিশেষে বলা যায়, নিয়ত এমন এক নীরব সাক্ষী—যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি কাজের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা—আমি এটা কার জন্য করছি? যদি উত্তর হয় আল্লাহর জন্য, তবে ছোট আমলও মহৎ হয়ে ওঠে। আর যদি উদ্দেশ্য হয় মানুষের সন্তুষ্টি, তবে বড় আমলও মূল্যহীন হয়ে যায়। প্রকৃত সফলতা এখানেই—নিয়তকে খাঁটি রাখা, আমলকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা।

Facebook Comments Box