আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জনি সিদ্দিক

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮১৬৭ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৯৭১৭

মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার
জনি সিদ্দিক

ডিসেম্বর মাস, বাঙালির জীবনে এক নতুন সূর্যের অঙ্গীকার নিয়ে আসে। এটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এটি মহান বিজয়ের মাস, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুমহান প্রতীক। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেদিন ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ছিল বাঙালির শত শত বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম অর্জন যা এক চরম আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা দিয়েছে।
বিজয় দিবস কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং এটি আত্মানুসন্ধান ও শপথের দিন। ত্রিশ লাখ বা তার বেশি শহীদের আত্মত্যাগ, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং কোটি কোটি মানুষের সীমাহীন কষ্টের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক “সোনার বাংলা” প্রতিষ্ঠা করা।
বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বহু দূর এগিয়েছে। একসময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত এই দেশটি আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকার বুকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি মেগাপ্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এসবই বিজয়ের চেতনার ফসল। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এই অগ্রযাত্রার এক বড় প্রমাণ।
তবে বিজয়ের এই পথচলায় আমাদের সামনে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আমাদের এই অর্জনগুলো কেবল টেকসই করা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে মোকাবিলা করা অত্যাবশ্যক। সমাজের গভীরে এখনো দুর্নীতি একটি মরণব্যাধি হিসেবে প্রোথিত। দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু দুষ্ট লোক রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করছে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং উন্নয়নের সুফলকে সীমিত সংখ্যক মানুষের মধ্যে আটকে রাখছে। দুর্নীতির কারণে সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে না এবং তাদের আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করছে। দুর্নীতির এই শেকড় উপড়ে ফেলতে না পারলে, টেকসই উন্নয়ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।
ফলস্বরূপ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ধনী-গরিব বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জিডিপি বাড়লেও এর সুষম বণ্টন হচ্ছে না। সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে, যা সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আয় বৈষম্য দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।
একই সঙ্গে, কর্মসংস্থানের অভাব আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বেকারত্ব তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করছে। দেশের উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী তরুণরা যখন মেধা থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ পান না, তখন হতাশা জন্ম নেয় এবং তাদের সৃজনশীল শক্তিকে আমরা জাতীয় উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি না। এই বেকারত্ব কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা। মানসম্মত শিক্ষার অভাব, শিল্প ও একাডেমির মধ্যে সংযোগের দুর্বলতা এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের অভাব এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন কৌশল এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহিত করা জরুরি। দুঃখের বিষয়— বর্তমানে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত তথা তৈরি পোশাক খাতের অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি ভিত্তিক আয় একেবারে স্তিমিত হয়ে পড়েছে! অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ সাবলীল রাখতে হবে। অবশ্যই রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে ধাপে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা এখনো জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে রাখছে, যা যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় আমাদের শক্তিকে খর্ব করে। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল ঐক্যবদ্ধতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। কিন্তু এই বিভাজন সেই চেতনার পরিপন্থী। গণতন্ত্রের অর্থ কেবল নির্বাচন নয়, বরং ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।
এছাড়াও, একবিংশ শতাব্দীর নতুন চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সামনে দৃশ্যমান। পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সমস্যাগুলো আমাদের টেকসই উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করছে। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ। নদীমাতৃক এই দেশে নদীভাঙন রোধ ও নদী ব্যবস্থাপনায় জরুরি মনোযোগ দিতে হবে। নদী ভাঙ্গনের ফলে হাজার হাজার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ সমূহে দেখা যায় সাধারণত বিখ্যাত শহরগুলো নদীর তীরে অবস্থিত। তাদের কোন নদী ভাঙ্গনের খবর পাওয়া যায় না। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গন একটি মারাত্মক ও ভয়ংকর সমস্যা। সুতরাং সর্বাগ্রে নদী ভাঙ্গনের প্রতিরোধে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। আধুনিক এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন সমস্যার সমাধান করতে হবে। নয়তো হাজার হাজার পরিবার সর্বহারা ও নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা এবং সর্বস্তরের দুর্নীতি দূর করা এখনও আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চাবিকাঠি। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকারের (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান) নিশ্চয়তা প্রদান করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি দরকার সামাজিক আন্দোলন এবং প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক জাগরণ। স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন ও মানসম্মত করা, বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা এবং শিক্ষাকে আধুনিক ও কারিগরি দিক থেকে যুগোপযোগী করা অত্যাবশ্যক।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন হলো এমন একটি দেশ, যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, যেখানে থাকবে না ধনী-গরিবের কোনো বৈষম্য, যেখানে দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রত্যেকটি নাগরিক বুঝে পাবে তার ন্যায্য অধিকার, তার মানবিক মর্যাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— দুর্নীতির ছোঁয়া আর থাকবেনা। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বা কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়নের স্থান থাকবে না আমাদের সমাজে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সেই প্রযুক্তি যেন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক ডিজিটাল বৈষম্যের শিকার না হয়।
আমাদের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নেতৃত্ব দেবে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে নয়, বরং নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এই নেতৃত্ব হতে হবে দূরদর্শী, মানবিক এবং আত্ম-সমালোচনায় সক্ষম।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মানে হল—”অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবিচল থাকা। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। সবাই একতাবদ্ধ ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।” এই আদর্শ আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়, প্রতিফলিত হওয়া চাই। এই আদর্শই আমাদের সাহস জোগাবে অবৈধ ক্ষমতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে গিয়ে আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, প্রয়োজন গভীর নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও স্বচ্ছতা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে, যাতে তারা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞান ও নৈতিকতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আদর্শ ও নৈতিক দিক থেকে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের করণীয়:
সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো, যেমন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, যাতে তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।
মিডিয়া ও সুশীল সমাজের ভূমিকা: স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের গঠনমূলক সমালোচনাকে গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য মনে করতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনসেবা বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সকল নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সংলাপ: জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ভুলে একটি ন্যূনতম ঐকমত্য ও সংলাপে পৌঁছানো অত্যাবশ্যক।

ঐক্যবদ্ধ জাতির শপথে নতুন দিগন্ত
ইতিহাস সাক্ষী—মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এসেছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কারণে। এটিই বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই ঐক্য ও দেশপ্রেম ধারণ করে সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফ বা ন্যায় ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের বিজয় দিবসের মূল অঙ্গীকার। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি জনগণের ঐক্যের কাছে দুর্বল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে যেভাবে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে হানাদার বাহিনীকে তাড়িয়ে ছিল, তারই জের ধরে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শক্তিকেও বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব করতে পারে। এই ঐক্য কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতা, সামাজিক সমতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও অপরিহার্য। তাই আসুন যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি আবার ২০২৪ সালেও ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এই সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখন আমরা সমাজের সকল প্রকার চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং সকল প্রকার বৈষম্যমুক্ত করে একটি ন্যায় ভিত্তিক আদর্শ “সোনার বাংলা” গড়তে হবে। এই শপথ গ্রহণ করেই আমরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অর্জনের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে পারি। এই বিজয় দিবসে আমাদের প্রতিশ্রুতি হোক— ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা একটি মানবিক, উন্নত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ উপহার দেব, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে বাঁচবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। আমাদের জাতীয় পতাকা যেন চিরকাল ন্যায়, সাম্য এবং মানবিকতার প্রতীক হয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এটাই হোক মহান বিজয় দিবসের চূড়ান্ত শপথ।

 

 

 

 

নাম ঠিকানা
জনি সিদ্দিক
সালনা, গাজীপুর।
বয়স: ৩৪, পেশা: বেসরকারি চাকরি।
01739-029234;
jony90siddique@gmail.com

Facebook Comments Box
এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জনি সিদ্দিক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
৯৭১৭

মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হোক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার
জনি সিদ্দিক

ডিসেম্বর মাস, বাঙালির জীবনে এক নতুন সূর্যের অঙ্গীকার নিয়ে আসে। এটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এটি মহান বিজয়ের মাস, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুমহান প্রতীক। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেদিন ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ছিল বাঙালির শত শত বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম অর্জন যা এক চরম আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা দিয়েছে।
বিজয় দিবস কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং এটি আত্মানুসন্ধান ও শপথের দিন। ত্রিশ লাখ বা তার বেশি শহীদের আত্মত্যাগ, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং কোটি কোটি মানুষের সীমাহীন কষ্টের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক “সোনার বাংলা” প্রতিষ্ঠা করা।
বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বহু দূর এগিয়েছে। একসময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত এই দেশটি আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকার বুকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি মেগাপ্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এসবই বিজয়ের চেতনার ফসল। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এই অগ্রযাত্রার এক বড় প্রমাণ।
তবে বিজয়ের এই পথচলায় আমাদের সামনে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আমাদের এই অর্জনগুলো কেবল টেকসই করা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে মোকাবিলা করা অত্যাবশ্যক। সমাজের গভীরে এখনো দুর্নীতি একটি মরণব্যাধি হিসেবে প্রোথিত। দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু দুষ্ট লোক রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করছে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং উন্নয়নের সুফলকে সীমিত সংখ্যক মানুষের মধ্যে আটকে রাখছে। দুর্নীতির কারণে সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে না এবং তাদের আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করছে। দুর্নীতির এই শেকড় উপড়ে ফেলতে না পারলে, টেকসই উন্নয়ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।
ফলস্বরূপ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ধনী-গরিব বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জিডিপি বাড়লেও এর সুষম বণ্টন হচ্ছে না। সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে, যা সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই বৈষম্য নিরসনে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আয় বৈষম্য দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।
একই সঙ্গে, কর্মসংস্থানের অভাব আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বেকারত্ব তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করছে। দেশের উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী তরুণরা যখন মেধা থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ পান না, তখন হতাশা জন্ম নেয় এবং তাদের সৃজনশীল শক্তিকে আমরা জাতীয় উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি না। এই বেকারত্ব কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা। মানসম্মত শিক্ষার অভাব, শিল্প ও একাডেমির মধ্যে সংযোগের দুর্বলতা এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের অভাব এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন কৌশল এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহিত করা জরুরি। দুঃখের বিষয়— বর্তমানে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত তথা তৈরি পোশাক খাতের অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি ভিত্তিক আয় একেবারে স্তিমিত হয়ে পড়েছে! অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ সাবলীল রাখতে হবে। অবশ্যই রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে ধাপে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা এখনো জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে রাখছে, যা যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় আমাদের শক্তিকে খর্ব করে। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল ঐক্যবদ্ধতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। কিন্তু এই বিভাজন সেই চেতনার পরিপন্থী। গণতন্ত্রের অর্থ কেবল নির্বাচন নয়, বরং ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।
এছাড়াও, একবিংশ শতাব্দীর নতুন চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সামনে দৃশ্যমান। পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সমস্যাগুলো আমাদের টেকসই উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করছে। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ। নদীমাতৃক এই দেশে নদীভাঙন রোধ ও নদী ব্যবস্থাপনায় জরুরি মনোযোগ দিতে হবে। নদী ভাঙ্গনের ফলে হাজার হাজার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ সমূহে দেখা যায় সাধারণত বিখ্যাত শহরগুলো নদীর তীরে অবস্থিত। তাদের কোন নদী ভাঙ্গনের খবর পাওয়া যায় না। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গন একটি মারাত্মক ও ভয়ংকর সমস্যা। সুতরাং সর্বাগ্রে নদী ভাঙ্গনের প্রতিরোধে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। আধুনিক এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন সমস্যার সমাধান করতে হবে। নয়তো হাজার হাজার পরিবার সর্বহারা ও নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা এবং সর্বস্তরের দুর্নীতি দূর করা এখনও আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চাবিকাঠি। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকারের (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান) নিশ্চয়তা প্রদান করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি দরকার সামাজিক আন্দোলন এবং প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক জাগরণ। স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন ও মানসম্মত করা, বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা এবং শিক্ষাকে আধুনিক ও কারিগরি দিক থেকে যুগোপযোগী করা অত্যাবশ্যক।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন হলো এমন একটি দেশ, যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, যেখানে থাকবে না ধনী-গরিবের কোনো বৈষম্য, যেখানে দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রত্যেকটি নাগরিক বুঝে পাবে তার ন্যায্য অধিকার, তার মানবিক মর্যাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— দুর্নীতির ছোঁয়া আর থাকবেনা। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বা কোনো প্রকার দুর্বৃত্তায়নের স্থান থাকবে না আমাদের সমাজে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সেই প্রযুক্তি যেন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক ডিজিটাল বৈষম্যের শিকার না হয়।
আমাদের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নেতৃত্ব দেবে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে নয়, বরং নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এই নেতৃত্ব হতে হবে দূরদর্শী, মানবিক এবং আত্ম-সমালোচনায় সক্ষম।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মানে হল—”অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবিচল থাকা। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। সবাই একতাবদ্ধ ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।” এই আদর্শ আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়, প্রতিফলিত হওয়া চাই। এই আদর্শই আমাদের সাহস জোগাবে অবৈধ ক্ষমতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে গিয়ে আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, প্রয়োজন গভীর নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও স্বচ্ছতা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে, যাতে তারা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞান ও নৈতিকতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আদর্শ ও নৈতিক দিক থেকে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের করণীয়:
সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো, যেমন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, যাতে তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।
মিডিয়া ও সুশীল সমাজের ভূমিকা: স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের গঠনমূলক সমালোচনাকে গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য মনে করতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনসেবা বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সকল নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সংলাপ: জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ভুলে একটি ন্যূনতম ঐকমত্য ও সংলাপে পৌঁছানো অত্যাবশ্যক।

ঐক্যবদ্ধ জাতির শপথে নতুন দিগন্ত
ইতিহাস সাক্ষী—মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এসেছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কারণে। এটিই বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই ঐক্য ও দেশপ্রেম ধারণ করে সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফ বা ন্যায় ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের বিজয় দিবসের মূল অঙ্গীকার। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি জনগণের ঐক্যের কাছে দুর্বল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে যেভাবে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে হানাদার বাহিনীকে তাড়িয়ে ছিল, তারই জের ধরে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শক্তিকেও বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব করতে পারে। এই ঐক্য কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতা, সামাজিক সমতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও অপরিহার্য। তাই আসুন যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি আবার ২০২৪ সালেও ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এই সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখন আমরা সমাজের সকল প্রকার চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং সকল প্রকার বৈষম্যমুক্ত করে একটি ন্যায় ভিত্তিক আদর্শ “সোনার বাংলা” গড়তে হবে। এই শপথ গ্রহণ করেই আমরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অর্জনের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে পারি। এই বিজয় দিবসে আমাদের প্রতিশ্রুতি হোক— ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা একটি মানবিক, উন্নত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ উপহার দেব, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে বাঁচবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। আমাদের জাতীয় পতাকা যেন চিরকাল ন্যায়, সাম্য এবং মানবিকতার প্রতীক হয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এটাই হোক মহান বিজয় দিবসের চূড়ান্ত শপথ।

 

 

 

 

নাম ঠিকানা
জনি সিদ্দিক
সালনা, গাজীপুর।
বয়স: ৩৪, পেশা: বেসরকারি চাকরি।
01739-029234;
jony90siddique@gmail.com

Facebook Comments Box