আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“টয়লেটের আদব ও সুন্নত: একজন মুসলমানের দৈনন্দিন পবিত্রতার নির্দেশনা”

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭৪ পড়া হয়েছে
১৯৬

টয়লেট

আমাদের নিত্য নতুন অভ্যাসের মধ্যে একটা হলো টয়লেট। প্রতিদিন খাওয়ার পর টয়লেটের প্রয়োজন হয়,তাই এখানে টয়লেটের আদব ও সুন্নত সম্পর্কে আলোচনা করছি।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে গুরুত্বের সঙ্গে পেশাব-পায়খানা সংক্রান্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো আয়ত্ত করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মধ্যেই দুনিয়া-আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু আদব নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১/ বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা এবং নিম্ন কাজে বাম হাত ও বাম পা ব্যবহার করতেন (আবুদাউদ হা/৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৯১২)।
বাতরুম যেহেতু নিম্ন কাজ তাই বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব।
২. প্রবেশের আগের দোয়া
সাধারণত টয়লেটে জিন শয়তানরা অবস্থান করে থাকে।এ জন্য মাথা ঢেকে জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করে বিসমিল্লাহসহ দোয়া পড়ে টয়লেটে প্রবেশ করতে হয়, অন্যথায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তিনি বলতেন,
​اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবাইস। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানাহ চাচ্ছি। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৩)
৩. সর্বদা বসে পেশাব-পায়খানা করা
আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বদা বসে পেশাব করেছেন। এটাই হওয়া উচিত উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আমল। কেননা গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে পেশাব করা মাকরুহ।
مَن حدَّثَكم أنَّه كان يَبولُ قائمًا فلا تُصدِّقوه، ما كان يَبولُ إلّا قاعدًا.
আয়েশা (রা.) বলেন, যারা তোমাকে এরূপ হাদিস শোনাবে যে রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন তা তুমি সত্য বলে গ্রহণ করবে না ‌। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৭)
৪. বিজোড় ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার করা
পেশাব-পায়খানার পর যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। পেশাবের পর পুরুষের কর্তব্য হলো পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত টিস্যু ধরে রাখা। তারপর পানি ব্যবহার করা। আর পায়খানার ক্ষেত্রে পুরুষের করণীয় পেছনের দিক থেকে ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার শুরু করা। আর নারীরা সর্বাবস্থায় সামনের দিক থেকে টিস্যু ব্যবহার করে পানি ব্যবহার করবে।
আবু হুরায়রা (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অজু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়। এরপর সে যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অজুর পানিতে হাত ঢোকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১৬১ )
৫. পেশাবের ছিটা থেকে সতর্ক থাকা
পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সাবধানতা অবলম্বন না করার পরিণতি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তিনি বলেন, এদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছে ।
কোনো কঠিন পাপের জন্য তাদের আজাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙে দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), এরূপ কেন করলেন? তিনি বলেন, হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে। যত দিন পর্যন্ত এটি না শুকাবে। (বুখারি, হাদিস: ২১৮)
৬. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া
টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বের করতে হয়। আর দোয়া পড়তে হয়। হাদিসে দুটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। গুফরানাকা শব্দটি বাড়িয়ে দোয়া দুটি একসঙ্গে পড়া যায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, যখন নবী (সা.) টয়লেট থেকে বের হতেন, তখন তিনি বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আননিল আজা ওয়াফানি।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং নিরাপত্তা দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০১)
৭/ডান পা দিয়ে বের হওয়া।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা ব্যবহার করতেন।বাতরুম থেকে বাহিরটা বেশি ভালো,এজন্যই বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া মুস্তাহাব।
টয়লেট
খাওয়ার পর টয়লেটের প্রয়োজন হয়,তাই এখানে টয়টেলের বিস্তারিত আলোচনা করা সমিচিন মনে করছি।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে গুরুত্বের সঙ্গে পেশাব-পায়খানা সংক্রান্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো আয়ত্ত করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মধ্যেই দুনিয়া-আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১/ বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা এবং নিম্ন কাজে বাম হাত ও বাম পা ব্যবহার করতেন (আবুদাউদ হা/৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৯১২)।
বাতরুম যেহেতু নিম্ন কাজ তাই বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব।
২. প্রবেশের আগের দোয়া
সাধারণত টয়লেটে জিন শয়তানরা অবস্থান করে থাকে।এ জন্য মাথা ঢেকে জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করে বিসমিল্লাহসহ দোয়া পড়ে টয়লেটে প্রবেশ করতে হয়, অন্যথায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তিনি বলতেন,
​اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবাইস। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানাহ চাচ্ছি। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৩)
৩. সর্বদা বসে পেশাব-পায়খানা করা
আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বদা বসে পেশাব করেছেন। এটাই হওয়া উচিত উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আমল। কেননা গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে পেশাব করা মাকরুহ।
مَن حدَّثَكم أنَّه كان يَبولُ قائمًا فلا تُصدِّقوه، ما كان يَبولُ إلّا قاعدًا.
আয়েশা (রা.) বলেন, যারা তোমাকে এরূপ হাদিস শোনাবে যে রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন তা তুমি সত্য বলে গ্রহণ করবে না ‌। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৭)
৪. বিজোড় ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার করা
পেশাব-পায়খানার পর যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। পেশাবের পর পুরুষের কর্তব্য হলো পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত টিস্যু ধরে রাখা। তারপর পানি ব্যবহার করা। আর পায়খানার ক্ষেত্রে পুরুষের করণীয় পেছনের দিক থেকে ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার শুরু করা। আর নারীরা সর্বাবস্থায় সামনের দিক থেকে টিস্যু ব্যবহার করে পানি ব্যবহার করবে।
আবু হুরায়রা (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অজু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়। এরপর সে যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অজুর পানিতে হাত ঢোকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১৬১ )
৫. পেশাবের ছিটা থেকে সতর্ক থাকা
পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সাবধানতা অবলম্বন না করার পরিণতি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তিনি বলেন, এদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছে ।
কোনো কঠিন পাপের জন্য তাদের আজাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙে দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), এরূপ কেন করলেন? তিনি বলেন, হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে। যত দিন পর্যন্ত এটি না শুকাবে। (বুখারি, হাদিস: ২১৮)
৬. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া
টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বের করতে হয়। আর দোয়া পড়তে হয়। হাদিসে দুটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। গুফরানাকা শব্দটি বাড়িয়ে দোয়া দুটি একসঙ্গে পড়া যায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, যখন নবী (সা.) টয়লেট থেকে বের হতেন, তখন তিনি বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আননিল আজা ওয়াফানি।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং নিরাপত্তা দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০১)
৭/ডান পা দিয়ে বের হওয়া।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা ব্যবহার করতেন।বাতরুম থেকে বাহিরটা বেশি ভালো,এজন্যই বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া মুস্তাহাব।

Facebook Comments Box
এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

“টয়লেটের আদব ও সুন্নত: একজন মুসলমানের দৈনন্দিন পবিত্রতার নির্দেশনা”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
১৯৬

টয়লেট

আমাদের নিত্য নতুন অভ্যাসের মধ্যে একটা হলো টয়লেট। প্রতিদিন খাওয়ার পর টয়লেটের প্রয়োজন হয়,তাই এখানে টয়লেটের আদব ও সুন্নত সম্পর্কে আলোচনা করছি।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে গুরুত্বের সঙ্গে পেশাব-পায়খানা সংক্রান্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো আয়ত্ত করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মধ্যেই দুনিয়া-আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু আদব নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১/ বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা এবং নিম্ন কাজে বাম হাত ও বাম পা ব্যবহার করতেন (আবুদাউদ হা/৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৯১২)।
বাতরুম যেহেতু নিম্ন কাজ তাই বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব।
২. প্রবেশের আগের দোয়া
সাধারণত টয়লেটে জিন শয়তানরা অবস্থান করে থাকে।এ জন্য মাথা ঢেকে জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করে বিসমিল্লাহসহ দোয়া পড়ে টয়লেটে প্রবেশ করতে হয়, অন্যথায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তিনি বলতেন,
​اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবাইস। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানাহ চাচ্ছি। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৩)
৩. সর্বদা বসে পেশাব-পায়খানা করা
আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বদা বসে পেশাব করেছেন। এটাই হওয়া উচিত উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আমল। কেননা গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে পেশাব করা মাকরুহ।
مَن حدَّثَكم أنَّه كان يَبولُ قائمًا فلا تُصدِّقوه، ما كان يَبولُ إلّا قاعدًا.
আয়েশা (রা.) বলেন, যারা তোমাকে এরূপ হাদিস শোনাবে যে রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন তা তুমি সত্য বলে গ্রহণ করবে না ‌। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৭)
৪. বিজোড় ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার করা
পেশাব-পায়খানার পর যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। পেশাবের পর পুরুষের কর্তব্য হলো পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত টিস্যু ধরে রাখা। তারপর পানি ব্যবহার করা। আর পায়খানার ক্ষেত্রে পুরুষের করণীয় পেছনের দিক থেকে ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার শুরু করা। আর নারীরা সর্বাবস্থায় সামনের দিক থেকে টিস্যু ব্যবহার করে পানি ব্যবহার করবে।
আবু হুরায়রা (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অজু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়। এরপর সে যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অজুর পানিতে হাত ঢোকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১৬১ )
৫. পেশাবের ছিটা থেকে সতর্ক থাকা
পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সাবধানতা অবলম্বন না করার পরিণতি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তিনি বলেন, এদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছে ।
কোনো কঠিন পাপের জন্য তাদের আজাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙে দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), এরূপ কেন করলেন? তিনি বলেন, হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে। যত দিন পর্যন্ত এটি না শুকাবে। (বুখারি, হাদিস: ২১৮)
৬. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া
টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বের করতে হয়। আর দোয়া পড়তে হয়। হাদিসে দুটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। গুফরানাকা শব্দটি বাড়িয়ে দোয়া দুটি একসঙ্গে পড়া যায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, যখন নবী (সা.) টয়লেট থেকে বের হতেন, তখন তিনি বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আননিল আজা ওয়াফানি।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং নিরাপত্তা দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০১)
৭/ডান পা দিয়ে বের হওয়া।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা ব্যবহার করতেন।বাতরুম থেকে বাহিরটা বেশি ভালো,এজন্যই বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া মুস্তাহাব।
টয়লেট
খাওয়ার পর টয়লেটের প্রয়োজন হয়,তাই এখানে টয়টেলের বিস্তারিত আলোচনা করা সমিচিন মনে করছি।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে গুরুত্বের সঙ্গে পেশাব-পায়খানা সংক্রান্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো আয়ত্ত করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মধ্যেই দুনিয়া-আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১/ বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা এবং নিম্ন কাজে বাম হাত ও বাম পা ব্যবহার করতেন (আবুদাউদ হা/৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৯১২)।
বাতরুম যেহেতু নিম্ন কাজ তাই বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব।
২. প্রবেশের আগের দোয়া
সাধারণত টয়লেটে জিন শয়তানরা অবস্থান করে থাকে।এ জন্য মাথা ঢেকে জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করে বিসমিল্লাহসহ দোয়া পড়ে টয়লেটে প্রবেশ করতে হয়, অন্যথায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তিনি বলতেন,
​اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবাইস। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় শয়তানদের থেকে পানাহ চাচ্ছি। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৩)
৩. সর্বদা বসে পেশাব-পায়খানা করা
আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বদা বসে পেশাব করেছেন। এটাই হওয়া উচিত উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আমল। কেননা গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে পেশাব করা মাকরুহ।
مَن حدَّثَكم أنَّه كان يَبولُ قائمًا فلا تُصدِّقوه، ما كان يَبولُ إلّا قاعدًا.
আয়েশা (রা.) বলেন, যারা তোমাকে এরূপ হাদিস শোনাবে যে রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন তা তুমি সত্য বলে গ্রহণ করবে না ‌। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৭)
৪. বিজোড় ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার করা
পেশাব-পায়খানার পর যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। পেশাবের পর পুরুষের কর্তব্য হলো পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত টিস্যু ধরে রাখা। তারপর পানি ব্যবহার করা। আর পায়খানার ক্ষেত্রে পুরুষের করণীয় পেছনের দিক থেকে ঢিলা-টিস্যু ব্যবহার শুরু করা। আর নারীরা সর্বাবস্থায় সামনের দিক থেকে টিস্যু ব্যবহার করে পানি ব্যবহার করবে।
আবু হুরায়রা (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অজু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়। এরপর সে যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অজুর পানিতে হাত ঢোকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১৬১ )
৫. পেশাবের ছিটা থেকে সতর্ক থাকা
পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সাবধানতা অবলম্বন না করার পরিণতি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তিনি বলেন, এদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছে ।
কোনো কঠিন পাপের জন্য তাদের আজাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙে দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), এরূপ কেন করলেন? তিনি বলেন, হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে। যত দিন পর্যন্ত এটি না শুকাবে। (বুখারি, হাদিস: ২১৮)
৬. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া
টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বের করতে হয়। আর দোয়া পড়তে হয়। হাদিসে দুটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। গুফরানাকা শব্দটি বাড়িয়ে দোয়া দুটি একসঙ্গে পড়া যায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, যখন নবী (সা.) টয়লেট থেকে বের হতেন, তখন তিনি বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আননিল আজা ওয়াফানি।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং নিরাপত্তা দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০১)
৭/ডান পা দিয়ে বের হওয়া।
যেকোন সম্মানজনক এবং ভালো কাজে রাসূল ﷺ ডান হাত এবং ডান পা ব্যবহার করতেন।বাতরুম থেকে বাহিরটা বেশি ভালো,এজন্যই বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া মুস্তাহাব।

Facebook Comments Box