জাগ্রত চেতনা
মনোয়ারা খাতুন রানু
মইনুদ্দিন সাহেবের তিন পুত্র এক কন্যা।দুই পুত্রের পর কন্যা তারপর ছোটপুত্র।বড় ছেলে সোলায়মান উদ্দিন,মেজো ছেলে মাহিন উদ্দীন এবং এবং ছোট ছেলে নইমুদ্দিন নঈম।মেয়ের নাম মরিয়ম।মইনুদ্দিন একটি ছোট কাপড়ের ব্যবসা করেন তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তাহাজ্জুদ আদায় করেন।তার স্ত্রী ও পরহেজগার একজন মহিলা এবং অমল হৃদয়ের একজন মানুষ।মইনুদ্দিন সাহেবের বড় দুই ছেলেকে মাদ্রাসায় এবং এবং কন্যাকেও মাদ্রাসায় পড়ান।কিন্তু ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। মাদ্রাসায় পড়ুয়া দুই ছেলে নিয়মিত নামাজ কালাম পড়তে থাকলো এবং তার মায়ের সাথে নিয়মিত নামাজ ও কোরআন পাঠ করে সেই সংগে মায়ের সাথে তার কাজে সাহায্য করে থাকে।ধীরে ধীরে ছেলেরা বড় হতে থাকে এবং বড় দুই ছেলে ব্যবসার কাজে সাহায্য করতে লাগলো।ঐ দিকে ছোট ছেলে স্কুলে সোনাই বেশি মনোযোগ দিতে পারে না, দিনে দিনে সে বন্ধু-বান্ধব জুটাতে থাকলো।বাবাকে সে কখনোই সাহায্য করতে চায় না বরং সে বারবার তারকাছে টাকা চাইতো। টাকা না দিলে মায়ের সাথে রাগ দেখায়।তার মা তাকে চেষ্টা করে দেখাতে থাকেন কিন্তু কিছু কাজ হয় না ঐদিকে মেয়ে বড় হওয়ায় ভালো একজন ভালো নামাজি ছেলে দেখে মেয়েকে বিয়ে দেন। আলহামদুলিল্লাহ মেয়ের জামাই অত্যন্ত ভদ্র পরহেজগার একজন পুরুষ।তিনি শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন এবং যে কেউ সম্মান দেখায়।বছর ঘুরে আসলো এক কন্যা সন্তান।বড় দুই ছেলেকে বিয়ে করানো হলো।মাশাআল্লাহ ছেলের বউ এরা যেমন সুন্দর আদবেও দুই ছেলে মতোই। বেশ ভালই কাটছিল মঈন উদ্দিনের সংসার কিন্তু ঝামেলা হল ছেলেকে নিয়ে।রোজ কিছু না কিছু নিয়ে পরিবারে অশান্তি করতো রোজ টাকা চেয়ে কখনো কিনে দেয়ার জন্য চাপ দিতো। নামাজ কালামের ধারও ধারে না।বাবা মা ভাইদের কথার কোন মূল্যই যেন নেই তার কাছে। মা নামাজে বসে শুধুই ছেলের হেদায়েত চেয়ে আল্লাহর কাছে মোনাজাতে চোখের পানি ফেলেন।বাবাও নিরবে কাঁদেন আর মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এই বলে যে ছেলেকে কেন মাদ্রাসায় না দিয়ে স্কুলে দিয়েছিলেন।আজ যদি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত বড় দুই ছেলের মতই ভদ্র ও আল্লাহ ভক্ত হতো।
তবুও তিনি হাল ছাড়েননি রোজই ছলে বলে কৌশলে বোঝাতে চাইতেন কিন্তু ছেলে এসব শুনতে নারাজ।বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও ঘুরেফিরে সময় কাটাতো।
একদিন দিনের স্ত্রী জোবেদা বেগম তার ফুফাতো বোনের বাড়ি বেড়াতে গেল তার বড় বোনকে দেখতে। সেখানে গিয়ে তিনি সাতদিন ছিলেন।উনার বোনের বড় দুই মেয়ের দিয়ে দিয়েছেন ছোট মেয়ে এখনো দিয়ে। শেষ সবে মাত্র আই এ পাস করেছে। নাম তার। যেমন সুন্দর তেমনি বোনের কাজে কর্মেও এবং নামাজ কালাম সকল বিষয়ে দক্ষ মিষ্টি একটা মেয়ে। জোবেদা বেগম তার বোনের সাথে তার ছোট ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের কথা আলাপ করেন। এতে বোনও রাজি হয়ে যায়।তারপর তিনি দিনক্ষণ দেখে ছেলের বিয়ে করিয়ে বোনের মেয়েকে ঘরে তুলে নিয়ে আসেন।ভালোই কেটে গেল কয়েকদিন।কিন্তু নুজাইফার তার স্বামী চলাফেরা উদাসীন ভাব আর নামাজ কোরআন না পড়ায় তার খুব মন খারাপ হয়।এ বিষয়ে সে তার শাশুড়ির সাথে কথা বলে এবং দিতে চায় সে তার ভাইয়ের থেকে না কেন? তখন তাকে সব খুলে বলেন যে তাকে মাদ্রাসায় না পরিয়ে স্কুলে পড়িয়েছেন আর আস্তে আস্তে সে সকলের কাছ থেকে দূরে সরে পড়ে। মা তার ছেলের মঙ্গল কামনা করে নুজাইফাকে বলেন, তুমি পারো একমাত্র তাকে ভালো পথে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে আনতে। নুজাইফা তার শাশুড়িকে আশ্বস্ত করে এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করবে বলে। দোয়া চায় তিনি তাকে প্রাণ ভরে দোয়া করেন। পরদিন ভোরে নজাইফা তার স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এই বলে চলো আমরা বাইরে হাঁটতে যাই। দুজন মিলে একসাথে তারা হাঁটতে বের হয়। হাঁটতে হাঁটতে নুজাইফা নঈমকে ফজরের নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করতে থাকে।সে আরও আজান সম্পর্কেও আলোচনা করে এভাবে রোদ সে তাকে নিয়ে সকালে হাঁটতে বের হয় এবং হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন হাদিস কোরআন নিয়েও বিভিন্নভাবে বুঝাতে থাকে। অবসর সময় মুসময় দিতে থাকেনুজাইফা তার স্বামীকে বেশি বেশি সময় দিতে থাকে যাতে করে সে বাইরে কম যায়। নঈমও ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে আগের মত রাগ দেখায় না কথা শুনে এবং ভালো হয়ে চলার চেষ্টা করে।একদিন নুজাইফা যখন ফজরের নামাজ পড়ছিল তখন নঈম বিছানা ছেড়ে উঠে ওযু করে নুজাইফার পাশে নামাজে দাঁড়ায়। এটা দেখে নুজাইফা মোনাজাতে কান্না করে আল্লাহর কাছে দোয়া চায় স্বামীর হেদায়েত চেয়ে।নামাজ শেষ করে নঈম নুজাইফা কে বলে তুমি আমাকে নামাজ শিখিয়ে দেবে? নুজাইফা আনন্দে নঈমকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকলো।এভাবে আস্তে আস্তে নঈম আল্লাহর দীনের পথে চলতে শুরু করলো।সে এখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে বাবা এবং ভাইদের সাথে দোকানে বসে। সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং সুখে শান্তিতে সকলে বসবাস করে।
আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।
নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।
Greeting Card তৈরি করুন