স্টেথোস্কোপের ওপারে আমি
নাম-আশরালিয়া মাফিন রনথি
ভোরের আলো উঠার আগেই ঘুম ভাঙে আমার,
মোবাইলের অ্যালার্ম নয়,কোনো রোগীর ডাকে বারবার।
সাদা কোটটা হাতে নিলে মনে পড়ে—
আজও এক জীবন আরেক জীবনের আশায় দরজায় দাঁড়াবে।
হাসপাতালের করিডোরটা আমার চেয়ে আমাকে বেশি চেনে,
কোন রুমে কাঁদে শ্বাস,কোন রুমে জন্মায় হঠাৎ হাসি—
সব তার জানা,সব আমায় বলে।
আমি শুধু হাঁটি—চোখে ক্লান্তি,মুখে দায়িত্বের ছায়া নিয়ে।
রোগীর চোখে যখন দেখি ভরসা—
সেই ভরসাটা পাহাড়ের মতো ভারী।
তারা ভাবে আমি পারব,আমিই বাঁচাব—
আর আমি মনে মনে বলি, “আল্লাহ,ভুল যেন না হয় কোনোবারই।”
ওটি তে ঢুকলে সময় গলে যায়—
ঘড়ি নামের জিনিসটা অস্তিত্ব হারায়।
চোখের সামনে রক্ত,যন্ত্র,মনিটর—
সব মিলিয়ে এক অনবরত যুদ্ধক্ষেত্র।
তবু সেখানেই আমি সবচেয়ে শান্ত—
কারণ হাত দুটো দিয়ে জীবনকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি।
কখনও কারো মা হাত ধরে বলে—
“ডাক্তার সাহেব,আমার ছেলেটাকে বাঁচান।”
এই এক বাক্য আমাকে ভেঙে দেয়,আবার দাঁড় করায়—
যেন আমি কোনো সুপারহিরো,অথচ ভিতরে আমি কেবলই মানুষ।
কখনো রিপোর্টে খারাপ খবর লিখতে হয়—
তখন মনে হয় কলমটা যেন পাথর হয়ে গেছে।
শব্দগুলো বের হয় না,গলা শুকিয়ে যায়—
কীভাবে বলি?কারো পুরো পৃথিবীটা বদলে যাবে এ তো।
রাত তিনটায় ক্যান্টিনের ঠান্ডা চা—
আমার দিনের শেষ,অন্য কারো দিনের শুরু।
সহযোগী ডাক্তারদের চোখেও দেখি—
জীবন বাঁচানোর আনন্দ আর হারানোর হাহাকার,
দুটোই একসাথে বহন করে তারা।
মাঝে মাঝে ভাবি,
আমার নিজের জীবনটাকে কি হারিয়ে ফেলেছি?
কিন্তু যখন কোনো রোগী হাঁটতে হাঁটতে বলে—
“ডাক্তার সাহেব,আপনার জন্যই আমি বেঁচে আছি”—
সেই কথাটুকু সব ক্লান্তি ধুয়ে দেয়।
ডাক্তারের জীবন সহজ নয়—
কিন্তু মানবতার সবচেয়ে কোমল আলোটা এখানেই দেখি।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরানো একটা নিঃশ্বাস,
আমার কাছে পুরস্কার-পৃথিবীর সব পুরস্কারের চেয়েও বড়।
এটাই আমার পেশা,এটাই আমার প্রতিজ্ঞা,
এটাই আমার নীরব,অন্তহীন যুদ্ধ—
আর এই যুদ্ধেই আমি বেঁচে আছি,বাঁচাচ্ছিও।
আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।
নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।
Greeting Card তৈরি করুন